মালয়েশিয়ায় বিদেশি নাগরিক পাচারের সঙ্গে জড়িত ‘গ্যাং সোজুল’ নামে একটি মানবপাচারকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত একজন স্থানীয় নাগরিক ও এক নারীসহ ১৯ বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত মোট ২০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়, যারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিল।
তিনি জানান, প্রথম অভিযানটি দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে পরিচালিত হয়। এ সময় একটি সুপার মার্কেটের পার্কিং এলাকায় পাচারকৃত অভিবাসী বহনকারী একটি ফোর-হুইল ড্রাইভ যান ও একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ছয়জন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন বাংলাদেশি নারী এবং একজন মিয়ানমারের পুরুষ নাগরিককে আটক করা হয়।
আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কুচাই লামা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। মানবপাচারকারী চক্রটি ভবনটিকে ট্রানজিট বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল। সেখানে আরও ১২ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা প্রতিবেশী দেশ থেকে সদ্য মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্য ও ক্লাং ভ্যালিতে পাঠানোর অপেক্ষায় ছিলেন। আটককৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
অভিযানকালে দুটি যানবাহন, একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নগদ ৮২ হাজার ১০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ৩ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়। আটক ২০ জন বিদেশিকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান জানান, মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন-২০০৭ (এটিপসোম), ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬-এর আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সক্রিয় ছিল। তারা তৃতীয় দেশের রুট ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করাত এবং কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকিয়ে সরাসরি ক্লাং ভ্যালিতে নিয়ে আসত। সেখান থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হতো।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, চক্রটি জনপ্রতি ১২ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত আদায় করত এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিত অবৈধ মুনাফা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
