
নোয়াখালীর মাইজদী পৌর পার্ক এলাকায় ফুচকা খাওয়ার সময় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে হয়রানি ও পুলিশ ভ্যানে তোলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯ টায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক নোবিপ্রবির সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, পরিচয় দেয়ার পরও নোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের ২০তম ব্যাচের পাঁচজন শিক্ষার্থী মাইজদী পৌর পার্কের একটি উন্মুক্ত ও জনবহুল স্থানে ফুচকা খাচ্ছিলেন। এ সময় দুটি পুলিশ গাড়ি সেখানে এসে থামে। গাড়িতে থাকা কয়েকজন সদস্য সিভিল পোশাকে ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা নিজেদের নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বৈধ স্টুডেন্ট আইডি কার্ড প্রদর্শন করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোরা এনএসটিইউর স্টুডেন্ট, তোরা রাত ৯টায় এখানে কী করস? তোদের ক্যাম্পাসে থাকার কথা এখন। তোরা বাইরে কী করিস? তোরা কেমন ধরনের ছাত্র বুঝতে পারছি।
অভিযোগে বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা কারণ না জানিয়েই তিনজন পুরুষ শিক্ষার্থীকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয় এবং প্রায় ২০ মিনিট সেখানে বসিয়ে রাখা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা দুই ছাত্রীকেও ভয়ভীতি ও অসদাচরণের মুখোমুখি হতে হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, ওসি নিজেই এসব কাজ করেছেন। আমরা বারবার জানতে চেয়েছি আমাদের অপরাধ কী। কিন্তু কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো খারাপ আচরণ করা হয়েছে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও আমাদের কথা শোনা হয়নি। ঘটনাস্থলে কোনো নারী পুলিশ সদস্য উপস্থিত না থাকলেও দুই ছাত্রীকে লাঠি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে উঠতে বলা হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় নোবিপ্রবির ১৪তম ব্যাচের এক সাবেক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তবে প্রথম দিকে পুলিশ তাদের সঙ্গেও কথা বলতে আগ্রহ দেখায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই পুলিশভ্যানে কিশোর গ্যাংয়ের সন্দেহভাজন সদস্যদেরও তোলা হচ্ছিল। এতে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন এবং পরে তাদের ভ্যান থেকে নামিয়ে আনা হয়। পরে শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে সুধারাম মডেল থানায় গেলে সেখানেও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, থানায় ওসি তাদের অভিযোগ শুনতে অনাগ্রহী ছিলেন এবং উচ্চস্বরে কথা বলেন। একপর্যায়ে ঘটনার বক্তব্য রেকর্ড করতে গেলে একজন পুলিশ সদস্য জোর করে একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ঘটনার বিষয়ে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখাতে পারলেও অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান বলেন, পুলিশকে একাধিকবার বলার পরও আমাদের শিক্ষার্থীদের ছাড়েনি৷ আমরা রাত ২টায় থানা থেকে এসেছি। বিষয়টি উদ্বেগজনক। উপাচার্য মহোদয় বলেছেন এটির যেনো সুন্দর সমাধান হয়।

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব 





