ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব Logo হত্যা মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট Logo নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক রেলমন্ত্রী Logo অভিবাসন নীতির পক্ষে কথা বলা মাইলোকেই ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র Logo আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না: রাষ্ট্রপতি Logo নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি Logo রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২২, মামলা ২৫ Logo সংসদের সামনে ছিনতাইকারীর ব্যাগ টানে শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ Logo সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় ২ লাখ শ্রমিক পাঠানো কার্যক্রম শুরু Logo চুক্তি নিয়ে বিরোধে সালিশের সুযোগ থাকলে রিট চলবে না

আফগানিস্তানের ২০ নাগরিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ইরান

আফগানিস্তানের অন্তত ২০ নাগরিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। চলতি বছরের শুরু থেকে ইরানের কারাগারে এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

তাদের পর্যালোচনা করা বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রায় প্রতি মাসেই অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এসব মামলায় মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে।

আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান সংবাদসংস্থা খ্যামা প্রেস বলছে, মৃত্যুদণ্ডের এসব ঘটনায় আসামিদের ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অধিকার সংগঠনগুলো। এছাড়া এসব ঘটনায় আসামিদের আইনজীবীর সহায়তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত প্রতি মাসেই ইরানে অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত তিন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে।

ইরানের মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোতে স্বচ্ছ নজরদারির অভাব, আইনজীবীর সঙ্গে আসামিদের সীমিত যোগাযোগের সুযোগ এবং ন্যায় বিচারের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বজনদেরও তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনি অবস্থা বা শেষ পরিণতি সম্পর্কে জানানো হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নথিভুক্ত বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে শিরাজের আদেলাবাদ কারাগার, তাইবাদ কারাগার, ইয়াজদ কারাগার এবং ইসফাহানের দাস্তগের্দ কারাগারে। এসব মামলার বড় একটি অংশ মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা সর্বশেষ ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসফাহানের কথিত আলিখানি স্কয়ার মামলা। ওই মামলায় দুই চাচাতো ভাই গোল মোহাম্মাদ মোহাম্মাদি ও কায়েম হোসেইনিকে বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে মামলাটির যোগসূত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আফশার শাহ-আহমাদি, ইমান শাফায়ি ও সদরুদ্দিন আহমাদজাদেহ নামের তিন আফগান নাগরিককে জুলাইয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। হিউম্যান রাইটস ইরান ও হেংগাও জানিয়েছে, একটি পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অংশ নেয়ার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, উদ্বেগ শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মামলাগুলো কীভাবে তদন্ত ও পরিচালনা করা হচ্ছে, সেটিও বড় প্রশ্ন। আসামিরা পর্যাপ্ত আইনগত সহায়তা পাচ্ছেন কি না, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের পরিবারকে যথাযথভাবে জানানো হচ্ছে কি না এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি ব্যক্তিরা কার্যকরভাবে নিজেদের পক্ষে সাফাই দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কি না—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।

অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কোনও সরকারি ঘোষণা ছাড়াই কার্যকর করা হয়। ফলে আফগান নাগরিকদের কতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

হেংগাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ৮৫ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

এদিকে ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি আফগান নাগরিকদের পক্ষে তালেবান কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয়

আফগানিস্তানের ২০ নাগরিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ইরান

আপডেটের সময়: ১১:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

আফগানিস্তানের অন্তত ২০ নাগরিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। চলতি বছরের শুরু থেকে ইরানের কারাগারে এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

তাদের পর্যালোচনা করা বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রায় প্রতি মাসেই অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এসব মামলায় মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে।

আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান সংবাদসংস্থা খ্যামা প্রেস বলছে, মৃত্যুদণ্ডের এসব ঘটনায় আসামিদের ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অধিকার সংগঠনগুলো। এছাড়া এসব ঘটনায় আসামিদের আইনজীবীর সহায়তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত প্রতি মাসেই ইরানে অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত তিন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে।

ইরানের মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোতে স্বচ্ছ নজরদারির অভাব, আইনজীবীর সঙ্গে আসামিদের সীমিত যোগাযোগের সুযোগ এবং ন্যায় বিচারের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বজনদেরও তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনি অবস্থা বা শেষ পরিণতি সম্পর্কে জানানো হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নথিভুক্ত বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে শিরাজের আদেলাবাদ কারাগার, তাইবাদ কারাগার, ইয়াজদ কারাগার এবং ইসফাহানের দাস্তগের্দ কারাগারে। এসব মামলার বড় একটি অংশ মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা সর্বশেষ ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসফাহানের কথিত আলিখানি স্কয়ার মামলা। ওই মামলায় দুই চাচাতো ভাই গোল মোহাম্মাদ মোহাম্মাদি ও কায়েম হোসেইনিকে বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে মামলাটির যোগসূত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আফশার শাহ-আহমাদি, ইমান শাফায়ি ও সদরুদ্দিন আহমাদজাদেহ নামের তিন আফগান নাগরিককে জুলাইয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। হিউম্যান রাইটস ইরান ও হেংগাও জানিয়েছে, একটি পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অংশ নেয়ার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, উদ্বেগ শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মামলাগুলো কীভাবে তদন্ত ও পরিচালনা করা হচ্ছে, সেটিও বড় প্রশ্ন। আসামিরা পর্যাপ্ত আইনগত সহায়তা পাচ্ছেন কি না, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের পরিবারকে যথাযথভাবে জানানো হচ্ছে কি না এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি ব্যক্তিরা কার্যকরভাবে নিজেদের পক্ষে সাফাই দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কি না—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।

অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কোনও সরকারি ঘোষণা ছাড়াই কার্যকর করা হয়। ফলে আফগান নাগরিকদের কতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

হেংগাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ৮৫ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

এদিকে ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি আফগান নাগরিকদের পক্ষে তালেবান কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।