ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব Logo হত্যা মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট Logo নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক রেলমন্ত্রী Logo অভিবাসন নীতির পক্ষে কথা বলা মাইলোকেই ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র Logo আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না: রাষ্ট্রপতি Logo নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি Logo রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২২, মামলা ২৫ Logo সংসদের সামনে ছিনতাইকারীর ব্যাগ টানে শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ Logo সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় ২ লাখ শ্রমিক পাঠানো কার্যক্রম শুরু Logo চুক্তি নিয়ে বিরোধে সালিশের সুযোগ থাকলে রিট চলবে না

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব রোধে কঠোর অভিযান: এক মাসে ৬০০-এর বেশি ভিসা বাতি

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ধনী মানুষদের সন্তান জন্ম দেওয়ার একটি আকর্ষণীয় দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান থাকায় অনেকেই সন্তান জন্মদানের জন্য ছুটে যেত যুক্তরাষ্ট্রে এবং জন্মের পরপরই সেই সন্তানটি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট পেয়ে যেত।

এখন ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা রোধে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই কঠোর ব্যবস্থার প্রথম এক মাসেই ৬০০-এর বেশি পর্যটক ও অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৬ আগস্ট স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের পর এই অভিযান জোরদার করা হয়। এর লক্ষ্য হলো—বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া চক্র ও মাধ্যমগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া।

টাস্কফোর্সের নজরদারি ও মূল লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ইতিহাস এবং ভিসা–সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে বি-ক্যাটাগরির ভিজিটর ভিসা নিয়েছিলেন, তাঁদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়া যাঁরা এই অবৈধ যাতায়াত, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং আবাসন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে জড়িত, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমেরিকান নাগরিকত্ব বিক্রির জন্য নয়।’ তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থার এই অপব্যবহার রোধে প্রশাসন তার সব আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ চালিয়ে যাবে।

পটভূমি ও বর্তমান নীতি

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। তবে বর্তমান প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলে শুধু সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য সাধারণ বি-১ বা বি-২ ভিজিটর ভিসা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় ভ্রমণের উদ্দেশ্য গোপন করলে বা মিথ্যা তথ্য দিলে তা স্থায়ী ভিসা অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব রোধে কঠোর অভিযান: এক মাসে ৬০০-এর বেশি ভিসা বাতি

আপডেটের সময়: ০২:০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ধনী মানুষদের সন্তান জন্ম দেওয়ার একটি আকর্ষণীয় দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান থাকায় অনেকেই সন্তান জন্মদানের জন্য ছুটে যেত যুক্তরাষ্ট্রে এবং জন্মের পরপরই সেই সন্তানটি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট পেয়ে যেত।

এখন ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা রোধে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই কঠোর ব্যবস্থার প্রথম এক মাসেই ৬০০-এর বেশি পর্যটক ও অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৬ আগস্ট স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের পর এই অভিযান জোরদার করা হয়। এর লক্ষ্য হলো—বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া চক্র ও মাধ্যমগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া।

টাস্কফোর্সের নজরদারি ও মূল লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ইতিহাস এবং ভিসা–সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে বি-ক্যাটাগরির ভিজিটর ভিসা নিয়েছিলেন, তাঁদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়া যাঁরা এই অবৈধ যাতায়াত, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং আবাসন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে জড়িত, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমেরিকান নাগরিকত্ব বিক্রির জন্য নয়।’ তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থার এই অপব্যবহার রোধে প্রশাসন তার সব আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ চালিয়ে যাবে।

পটভূমি ও বর্তমান নীতি

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। তবে বর্তমান প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলে শুধু সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য সাধারণ বি-১ বা বি-২ ভিজিটর ভিসা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় ভ্রমণের উদ্দেশ্য গোপন করলে বা মিথ্যা তথ্য দিলে তা স্থায়ী ভিসা অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।