ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব Logo হত্যা মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট Logo নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক রেলমন্ত্রী Logo অভিবাসন নীতির পক্ষে কথা বলা মাইলোকেই ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র Logo আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না: রাষ্ট্রপতি Logo নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি Logo রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২২, মামলা ২৫ Logo সংসদের সামনে ছিনতাইকারীর ব্যাগ টানে শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ Logo সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় ২ লাখ শ্রমিক পাঠানো কার্যক্রম শুরু Logo চুক্তি নিয়ে বিরোধে সালিশের সুযোগ থাকলে রিট চলবে না

কক্সবাজারে চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন, জানালা ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার

কক্সবাজারে একটি চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় লাঠি দিয়ে বাসটির জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) স্লিপার বাসটি আইকন পরিবহনের। কক্সবাজার থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে এটি ঢাকায় যাচ্ছিল। বাসের যাত্রীদের একজন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবদুস সবুর। তিনি বলেন, চলন্ত বাসটিতে আগুন লাগার পর বাসের চালক ও সহকারী নেমে যান। তবে দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা নামতে পারছিলেন না। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন ও ধোয়া দেখে এগিয়ে আসেন। পরে বাসটির জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের বের করে আনেন। যাত্রীদের মধ্যে নারী-শিশুও ছিল।

বাসের আরেক যাত্রী ও ঢাকার বাসিন্দা মো. রায়হান বলেন, দুই দিন আগে তিনি কয়েকজনের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে যান। রাতে সেখান থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর মোড় বাসটি ছাড়ে। রামুর কলঘর এলাকায় বাসটিতে আগুন লাগলেও চালক-সহকারী যাত্রীদের তা না জানিয়েই নেমে যান। তিনি বলেন, ‘প্রথমে পোড়া গন্ধ পাই, পরে দেখি আগুন লেগেছে। স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার গ্লাস ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন।’

মো. সোহেল রানা নামের এক যাত্রী জানান, তিনি পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাতে সবাই সেখান থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার না করলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ খান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দেখতে পান বাসে আগুন জ্বলছে, ভেতরে বেশ কিছু যাত্রী হইচই-চিৎকার শুরু করছেন। গাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার কাচ ভাঙা শুরু করেন। এরপর ভাঙা জানালা দিয়ে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রীদের মালামাল বাসের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পারভেজ খান আরও বলেন, পরে ফায়ার সার্ভিস এসে বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। রাতে যাত্রীরা অন্য বাসে গন্তব্যে ফিরে গেছেন।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জানালা ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়, তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

জনপ্রিয়

কক্সবাজারে চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন, জানালা ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার

আপডেটের সময়: ০১:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারে একটি চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় লাঠি দিয়ে বাসটির জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) স্লিপার বাসটি আইকন পরিবহনের। কক্সবাজার থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে এটি ঢাকায় যাচ্ছিল। বাসের যাত্রীদের একজন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবদুস সবুর। তিনি বলেন, চলন্ত বাসটিতে আগুন লাগার পর বাসের চালক ও সহকারী নেমে যান। তবে দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা নামতে পারছিলেন না। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন ও ধোয়া দেখে এগিয়ে আসেন। পরে বাসটির জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের বের করে আনেন। যাত্রীদের মধ্যে নারী-শিশুও ছিল।

বাসের আরেক যাত্রী ও ঢাকার বাসিন্দা মো. রায়হান বলেন, দুই দিন আগে তিনি কয়েকজনের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে যান। রাতে সেখান থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর মোড় বাসটি ছাড়ে। রামুর কলঘর এলাকায় বাসটিতে আগুন লাগলেও চালক-সহকারী যাত্রীদের তা না জানিয়েই নেমে যান। তিনি বলেন, ‘প্রথমে পোড়া গন্ধ পাই, পরে দেখি আগুন লেগেছে। স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার গ্লাস ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন।’

মো. সোহেল রানা নামের এক যাত্রী জানান, তিনি পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাতে সবাই সেখান থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার না করলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ খান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দেখতে পান বাসে আগুন জ্বলছে, ভেতরে বেশ কিছু যাত্রী হইচই-চিৎকার শুরু করছেন। গাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার কাচ ভাঙা শুরু করেন। এরপর ভাঙা জানালা দিয়ে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রীদের মালামাল বাসের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পারভেজ খান আরও বলেন, পরে ফায়ার সার্ভিস এসে বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। রাতে যাত্রীরা অন্য বাসে গন্তব্যে ফিরে গেছেন।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জানালা ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়, তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’